Feb 8, 2026

🎯 নির্বাচনে ১৬ বছর পর আইন প্রয়োগের ক্ষমতা ফিরে পেল সেনাবাহিনী

 


🎯 নির্বাচনে ১৬ বছর পর আইন প্রয়োগের ক্ষমতা ফিরে পেল সেনাবাহিনী

“নির্বাচনে শান্তি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর আইন প্রয়োগের ক্ষমতা পুনর্বহাল”

দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও নির্বাচনের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা ফিরে পেল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পুলিশ কর্মকর্তাদের মতোই সরাসরি নির্বাচনী অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন।

২০০১ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো আরপিও সংশোধন করে সেনাবাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সে সময় অধ্যাদেশ আকারে এই বিধান কার্যকর হয় এবং নির্বাচনে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ভোটের পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এই ক্ষমতা বাতিল করে দেয়।

তৎকালীন সরকারের যুক্তি ছিল, নির্বাচনে সেনাবাহিনীর এই ক্ষমতা ভোটের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। সেই সিদ্ধান্তের ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞা থেকে প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ—অর্থাৎ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী—কে বাদ দেওয়া হয়। এতে করে একজন আনসার সদস্য যেখানে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা রাখতেন, সেখানে একজন সেনা সদস্য সেই ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হন। এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনাবাহিনীকে ক্ষমতাহীন রাখা হয়।

সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী এবার পরিস্থিতি বদলেছে। নতুন বিধানে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারবেন। পাশাপাশি তারা সরাসরি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন, যা আগে সম্ভব ছিল না।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান এল মাসুদ বলেন,
“আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশবাসীর আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো বিশ্বাস করে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে তা সুষ্ঠু নির্বাচনের সহায়ক হবে।”

তিনি আরও জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ সংশোধনের মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে আর অন্য কোনো সংস্থার নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী সহিংসতা, কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠলেও সেনাবাহিনীর সীমিত ভূমিকার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। নতুন এই সংশোধনের মাধ্যমে সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ১৬ বছর পর সেনাবাহিনীর আইন প্রয়োগের ক্ষমতা পুনর্বহাল হওয়াকে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এতে করে আসন্ন নির্বাচন আরও শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সাধারণ মানুষের।




শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: