Oct 28, 2024

ভিডিও কলে কথা বলার সময় চিরকুট লিখে আ-ত্মহ-ত্যা করেছেন দুই যুগল।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বেতুয়ায় চিরকুট লিখে ভিডিও কলে আত্মহত্যা করেছেন নববধূ ও তার প্রবাসী প্রেমিক। শনিবার সন্ধ্যায়, সাড়ে ছয়টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। রাত ১১টার দিকে নববধূ খাদিজা আক্তার উর্মির (১৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সঙ্গে পাওয়া যায় তার লেখা চিরকুট।

উর্মি, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার মাটিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মাত্র ১৪ অক্টোবর লালমাই উপজেলার ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামের বাসিন্দার সঙ্গে গোপনে তার বিয়ে হয়। অপরদিকে, ওমান প্রবাসী ২৩ বছর বয়সী সাফায়েত হোসেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।
উর্মির চিরকুটে লেখা ছিল, "দুজন একসঙ্গে বাঁচতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দিলে না... তোমরা সুখে থেকো। আমি ওকে ছাড়া বাঁচব না। ও বেঁচে থাকলে ওকেও তোমাদের হাতে খুন হতে হতো। তাই দুনিয়া ছাড়লাম। শেষ ইচ্ছা, আমাদের কবর যেন একসঙ্গে দেওয়া হয়।"

প্রবাসী সাফায়েতও তার চিরকুটে শেষ ইচ্ছার কথা লিখে যান: "আমার মৃত্যুর কারণ একমাত্র ফ্যামিলি। সব রেকর্ড মোবাইলে আছে... মৃত্যুর জন্য তাদের দায়ী। কোনো দিন ক্ষমা করব না।"
উর্মির মা নুরুন্নাহার জানান, ১৪ অক্টোবর মেয়ে উর্মিকে বিয়ে দিয়েছিলেন এবং সে স্বামীর বাড়িতে হাসিখুশি ছিল। তবে শনিবার রাতে জানতে পারেন, ভিডিও কলে উর্মি ও সাফায়েত একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছে। 

সাফায়েতের বাবা আবদুল খালেক বলেন, এক বছর আগে ছেলেকে ওমান পাঠিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে জানতে পারেন, ছেলের সঙ্গে ফেসবুকে উর্মির পরিচয় হয়েছিল, এবং উর্মির বিয়ের খবর শোনার পর থেকে ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। 
আবদুল খালেক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার ছেলেসহ দুটি তরতাজা প্রাণ ঝরে গেল। এর জন্য আমি মেয়ের বাল্যবিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের দায়ী করি এবং তাদের শাস্তি চাই।" তিনি জানান, ছেলের চিরকুট পেয়েছেন এবং আইনি পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

লালমাই থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, “বিয়ের ১৩তম দিনে নববধূ প্রবাসী প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। প্রবাসী প্রেমিকও একইভাবে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানতে পেরেছি। চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে এবং নববধূর ভাই একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।”

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: