Feb 6, 2026

দিনাজপুর সদর উপজেলার লালু পাড়ায় মা ও মেয়েকে আটক: দেহ ব্যবসার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য

 

দিনাজপুর সদর উপজেলার লালু পাড়ায় মা ও মেয়েকে আটক: দেহ ব্যবসার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য

দিনাজপুর সদর উপজেলার লালু পাড়া এলাকায় দেহ ব্যবসার অভিযোগে এক মা ও তার মেয়েকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিকভাবে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আটক হওয়া নারী সালমা এবং তার মেয়ে ঊর্মি একই বাসায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে সন্দেহজনক কার্যকলাপ চলছিল। বাইরের বিভিন্ন পুরুষের নিয়মিত যাতায়াত এলাকাবাসীর সন্দেহ আরও জোরালো করে তোলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন কয়েকজন বহিরাগত পুরুষ ওই বাসায় প্রবেশ করেন। সে সময় মা ও মেয়ে পৃথক দুটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর এলাকাবাসীর লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে ওই বাসায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরে হাতেনাতে তাদের আটক করেন বলে দাবি করা হয়।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে কোতোয়ালি থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা সালমা, মেয়ে ঊর্মি এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে।

কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে একটি পরিবার এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে মা ও মেয়ের একসঙ্গে এই ধরনের অভিযোগে আটক হওয়ার বিষয়টি সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু একটি অপরাধের ঘটনা নয়, বরং সামাজিক অবক্ষয়, দারিদ্র্য ও নৈতিক সংকটের প্রতিফলন।

এলাকাবাসীর কেউ কেউ দাবি করছেন, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত আটক মা ও মেয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

ঘটনাটি দিনাজপুর সদর উপজেলায় সামাজিক নিরাপত্তা ও মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তদন্ত শেষে সত্য উদঘাটন হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: