সাংবাদিক মুন্নী সাহার অ্যাকাউন্টে ১৩৪ কোটি টাকা, শান্তিনিকেতনে ডুপ্লেক্স বাড়ি
সাংবাদিক মুন্নী সাহার ব্যাংক লেনদেন এবং সন্দেহজনক আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তর অনুসন্ধান
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সাংবাদিক মুন্নী সাহার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাব থেকে বেতনের বাইরের ১৩৪ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। এ ছাড়া গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোড এলাকার শান্তিনিকেতনে ১৬৫, রোজাগ্রীণে একটি ডুপ্লেক্স বাড়িরও সন্ধান মিলেছে।
বিএফআইইউ-এর অনুসন্ধানে মূল বিষয়গুলো
ব্যাংক হিসাব ও লেনদেন
- মুন্নী সাহার স্বামী কবির হোসেন তাপসের মালিকানাধীন এমএস প্রমোশনের নামে ওয়ান ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় ২০১৭ সালের ২ মে একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।
- এ হিসাবের নমিনি ছিলেন মুন্নী সাহা।
- সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে এ হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। বর্তমানে স্থগিত হিসাবে রয়েছে মাত্র ১৪ কোটি টাকা।
সন্দেহজনক লেনদেন
- ওয়ান ব্যাংক এবং আরও ১৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ১৩৪ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
- উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এমএস প্রমোশনের হিসাব থেকে প্রাইম ট্রেডার্সের হিসাবে তিনটি চেকের মাধ্যমে ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়, যা বিএফআইইউ সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ঋণ গ্রহণ ও পুনর্গঠন
- প্রাইম ট্রেডার্স নামে ২০০৪ সালে খোলা একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ঋণ নেওয়া হয়।
- ২০১৭ সালে ও ২০২২ সালে তিন দফায় ঋণ পুনর্গঠন এবং ২৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সুদ মওকুফ করা হয়।
- এসব ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ না করায় পুনঃতফসিল করা হয়েছে।
কবির হোসেন তাপসের বক্তব্য
তাপস জানিয়েছেন, এমএস প্রমোশনের হিসাবটি তার ব্যবসার স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এসব লেনদেনের সঙ্গে মুন্নী সাহার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “ব্যাংকের সব কার্যক্রম বৈধ এবং এগুলো আমার ব্যবসায়িক প্রয়োজনে করা হয়েছে।”
আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
বিএফআইইউ সন্দেহ করছে, এসব লেনদেনের মাধ্যমে অর্থপাচারের সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
.png)

0 coment rios: