Nov 4, 2024

ব্যবসায়ী থেকে সম্পূর্ণরূপে রাজনীতিবিদ ট্রাম্প।

কে ছিলেন এই ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জীবনী


নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শোবিজে কাটানো তার জীবনের অধিকাংশ সময়ের পরেও হঠাৎ করেই রাজনীতির মঞ্চে আসা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও সমালোচনা ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একসময়, যখন মনে হচ্ছিল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ, তখনই তিনি মার্কিন নির্বাচনে আবারো শক্তিশালীভাবে ফিরে আসেন।

আমেরিকার রাজনীতিতে ট্রাম্প মানেই বিতর্ক। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই তিনি ধনকুবের হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালের ১৫ জুন, এক কোটিপতি ব্যবসায়ী হিসেবে আচমকাই প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন, যা খুব কম লোকই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তার লক্ষ্যে স্থির ছিলেন এবং ব্যবসায়ী থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠেন।

২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে, সব ভবিষ্যদ্বাণীকে মিথ্যা প্রমাণ করে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটনকে নাটকীয়ভাবে পরাজিত করে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেন। 

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্পের কার্যক্রমে বারবার নাটকীয়তা দেখা যায়। মুসলিম নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেন। অভ্যন্তরীণ নীতির পাশাপাশি তার বৈশ্বিক নীতিও ছিল অস্বচ্ছ। এর মধ্যেই দ্বিতীয়বার নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনি তৃতীয় প্রেসিডেন্ট, যিনি অভিশংসিত হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য সংগ্রহের জন্য বিদেশি সরকারকে চাপ দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা তাকে অভিশংসিত করলেও রিপাবলিকান সিনেটে তিনি খালাস পান।

২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট পদে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু জো বাইডেনের কাছে ৭০ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকার করে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে সমর্থকদের নিয়ে সমাবেশ করেন, যেখানে তার সমর্থকরা ক্যাপিটল হিলে হামলা চালায়। এই ঘটনায় তিনি দ্বিতীয়বার অভিশংসিত হন, তবে সেনেটে আবারও খালাস পান।

ক্যাপিটল হামলার পর তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করা হয়েছিল, কিন্তু ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনয়ন নিতে লড়াইয়ে নামেন। চারটি ফৌজদারি মামলায় ৯১টি গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনী দৌড়ে পুনরায় মাঠে নেমে পড়েন। ৭৮ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান আবারও সকল বাধা অতিক্রম করে দ্বিতীয়বার ওভাল অফিসের অপেক্ষায়।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: