গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
![]() |
| চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর |
বিপরীত – নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে নিয়ে করা বিতর্কিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, ট্রাইব্যুনাল প্রশাসন জানিয়েছে, যদি নুর তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন এবং ক্ষমা না চান, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৪ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন নুরুল হক নুর। যেখানে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। এদিকে, তার বক্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও চিফ প্রসিকিউটরের মর্যাদা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন মন্তব্যও করা হয়।
এছাড়া, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাহিনী নুরুল হক নুর এবং তার সহকর্মীদেরকে ট্রাইব্যুনাল ভবনে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছিল। এরপর তারা সেখানেই একটি সংবাদ সম্মেলন করে এবং স্লোগান দিতে থাকে, যা ছিল আইনের প্রতি অবজ্ঞা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, “নুরুল হক নুর এবং তার দলীয় কর্মীরা যদি তাদের আচরণ সংশোধন না করেন এবং বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন, তবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দৃঢ় বার্তা হবে।”
এর পরিপ্রেক্ষিতে, টানা চাপের মুখে, গত ১৫ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, নুরুল হক নুর তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন এবং তার বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে, একাধিক রাজনৈতিক নেতা এবং বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, নুরুল হক নুরের মতামত ও বক্তব্য দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তারা বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর আক্রমণ জনমনে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এদিকে, নুরুল হক নুর ফেসবুক পোস্টে তার বক্তব্যের বিভ্রান্তিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি ইতিমধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, "গণহত্যার বিচার এবং ন্যায্যতার নিশ্চয়তার জন্য ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।"
এর মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হলেও, আইসিটি এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্যের জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে।


0 coment rios: