অবশেষে কারাগারে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী -
Chinmoy Krishna Das | ISKCON
নিজেদের আন্দোলনকে সম্পূর্ণ অহিংস দাবি করে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের নেতারা অভিযোগ করেছেন, কিছু দুর্বৃত্ত তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ঢুকে সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রতিনিধি সুমন রায় এই মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রামে সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) সাইফুল ইসলাম ওরফে আলিফ হত্যার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুমন রায় বলেন, “আমাদের আন্দোলন কখনো সহিংস নয়। গতকাল রাতে শাহবাগে আমাদের আন্দোলনের মধ্যে কিছু দুর্বৃত্ত ঢুকে সেটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। কারণ, তারা আমাদের অহিংস আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।”
তিনি আরও দাবি করেন, চট্টগ্রামে ওই আইনজীবীর ওপর হামলার কারণ হতে পারে তার হিন্দু পরিচয়। সুমন রায়ের ভাষ্যমতে, “এখন চট্টগ্রামে অন্যান্য হিন্দু আইনজীবীরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।”
জোটের নেতারা এ বিষয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই ঘটনাগুলোর পেছনের প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, আগামীকাল বুধবারের মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জামিন দেওয়া না হলে তাঁকে রাখা কারাগারের দিকে লংমার্চ করা হবে এবং সনাতনীরা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মিথ্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের প্রতিনিধি প্রসেনজিৎ কুমার হালদার। তিনি বলেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর জোটের সমর্থকেরা মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে তথ্য জানতে চান। তবে সেখানে সঠিক তথ্য না পেয়ে তাঁরা শাহবাগ মোড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন কিছু উগ্রবাদী ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে প্রায় ৩০ জন সমর্থক আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। হামলায় দুই নারী সমর্থকও নিগ্রহের শিকার হন।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা হলেও পুলিশ তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা রাখেনি।
দাবি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
জোটের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানির জন্য আগামীকাল তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর আগে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জোটের প্রতিনিধি অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তী, পলাশ কান্তি দে, তন্ময় মৌলিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
.png)

0 coment rios: